ব্লক সম্পর্কে আরও জানুন

ব্লক ব্যাবহারের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। কৃষি এ দেশের অর্থনীতির বৃহতম উৎপাদনকারী খাতগুলির মধ্যে একটি , যা জিডিপির 13.31% নিয়ে গঠিত এবং মোট শ্রমশক্তিতে 43% কৃষি কর্মচারী জড়িত। এ দেশের প্রায় ৮০০০ বৈধ ও অবৈধ ইটের ভাটাসমূহ বছরে ৩৫০০ কোটি মাটির ইট  তৈরিরতে এ দেশের চাষের মাটি ব্যাবহার  করেছে। এতে দেশের কৃষিজমি আজ হুমকির সম্মুখীন, এছাড়া কয়লা পোড়ানোয় ইটের ভাটার চারিদিকে জমির সক্ষমতা হাস পাওয়ায় বিগত ২০১৮ সালের একনেক এর বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পোড়ামাটির ইট ব্যবহার বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব ইট বা ব্লক ব্যবহার করার নির্দেশ দেন। কয়লায় পোড়ানো মাটির ইটের বিকল্প এই ব্লক ছিদ্রহীন বা ছিদ্রযুক্ত হয়ে থাকে, যা কংক্রিট প্রোডাক্টস বা পরিবেশবান্ধব ব্লক নামে সুপরিচিত।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার কারিগর, পৃথিবীর ও বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ুর রূপরেখার নির্দেশক এবং আইন প্রণয়নকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর নির্দেশে এবং আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব রক সেক্টর এর প্রসার এব ব্যবহার শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, ইট ও ভার্থাপন(নিয়ন্ত্রন), ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ধারা ৫ (৩ক) এর ক্ষমতাবলে ইট উৎপাদনে মাটির ব্যবহার হ্রাস করার উদ্দেশ্যে সকল সরকারী নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজে পরিবেশবান্ধব ব্লক (পোড়ানো মাটির ইটের বিকল্প) ব্যবহারের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, দেশের চাষের মাটি রক্ষায় সরকারের প্রজ্ঞাপন এর মাত্র দশ শতাংশও বাস্তবায়ন হয় নাই, অথচ ২০২৪ অর্থবছরে ৮০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব ব্লক  ব্যবহারের সরকারের নির্দেশ রয়েছে। 

সরকারী প্রজ্ঞাপনে ভাটায় পোড়া মাটির ইট কেন নিষেধ করা হয়েছে?

৫। বাংলাদেশ এখনও খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ন রয়েছে, এর কারন আমাদের ৮৭ শতাংশ মানুষ বিভিন্নভাবে এখনও কৃষির উপর নির্ভরশীল। আমরা সকলেই জানি, চাষাবাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বেলে দোয়াস মাটি, এই মাটি দিয়ে সবচেয়ে ভালোমানের ইট তৈরী করা হয়। তাই, ইটভাটার মালিকগন বেলে-দোয়াস মাটি সংগ্রহ করে থাকে। প্রতি বছর প্রায় ৩৫০০ কোটি মাটির ইট তৈরি করতে গিয়ে শত বছরের চাষের মাটি আজ নিঃশেষ এর দ্বারপ্রান্তে। বিশ্বব্যাংক বলছে যে, বাংলাদেশ ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষিখাতের এক-তৃতীয়াংশ জিডিপি হারাবে। তাই আমাদের এখনই চাষের মাটি রক্ষা করার জন্য সচেতন হতে হবে, দেশের চাষযোগ্য জমি বাড়াতে হবে। একটি আধুনিক ব্লক কারখানা(+/০) প্রায় ১৮টি সনাতন ধরণের ইটের ভাটার বিকল্প হতে পারে, এর মাধ্যমে ১২০ একর জমি পুনরায় চাষের জন্য উপযোগী হবে। একটি মধ্যম মানের কংক্রিট ব্লক কারখানা প্রায় তিনটি ইট ভাটার সমপরিমান ব্লক উৎপাদনে সক্ষম। আমরা সকলেই জানি, ইটের ভাটা এর চারিপাশে ভালো ফসল হয় না, ধানে চিটা পড়ে যায়। অথচ, পরিবেশবান্ধব ব্লক কারখানা এর মাধ্যমে পরিবেশ এর কোন ক্ষতি হয় না, ধান বা ফসল উৎপাদন ভালো হয়। কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন ও ইট তৈরিতে কৃষি জমির মাটি ব্যবহার এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যহত ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তার উপর হুমকি সৃষ্টি করছে।

৬৷। বায়ুদ্ষমন এর অনেকগুলো নিয়ামকসমূহের মধ্যে ইটভাটার বিষাক্ত কয়লাপোড়া ধোঁয়া অন্যতম। দেশের বায়ুদ্ষনের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানমাত্রার চেয়ে ২০ গুনের অধিক, যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বায়ু দূষণের কারনে বাংলাদেশে বছরে ১,৬৩,০০০ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১৯ শতাংশ। এ বায়ু দুষনের কারনে ২৮ কোটি দিনের মত কর্মসময় নষ্ট হয়, যা জিডিপির প্রায় ৯ শতাংশ।

কেন পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহার করা উচিৎ?

৩। চাষের জমি না থাকলে বা চাষের মাটি না থাকলে এ দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আহার সংস্থান করা অসম্ভব। পরিবেশবান্ধব ব্লক নির্মান কাজে ব্যবহারে কৃষিজমি রক্ষা পাবে, বায়ু দূষণ হবে না ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষা হবে। এছাড়া নদীর ড্রেজিং বালি, পরিত্যক্ত বিল্ডিং এর কংক্রিট, বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ইত্যাদি ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব ব্লক প্রস্তুত করা হয়। নদীর উৎস মুখের মোটা বালি ও ড্রেজিং বালি এই ব্লক উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় নদীর নাব্যতা রক্ষা করা সম্ভব হবে, বর্জ্য দ্রব্যাদি রিসাইকেন্ড হবে, সর্বোপরি দেশে একটি সাস্টেইনেবল বা দীর্ঘস্থায়ী অর্থনীতি চালু হবে। পরিবেশবান্ধব ব্লক দিয়ে নির্মিত বাড়ীতে বিদ্যুৎ কম খরচ হয়, ব্লকের মধ্যে ছিদ্র বা হলো থাকায় বিল্ডিং ওজন হালকা (| মম থাকে, যা বিল্ডিংকে ভূমিকম্পসহনশীল করে৷ বায়ুদূষণ বাংলাদেশের একটি অন্যতম সমস্যা, যা দেশের স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতকে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে, এর অন্যতম নিয়ামক হিসেবে ইটভাটার দুষিত বাতাসকে দায়ী করা হয়। এছাড়া, ব্লক দিয়ে নির্মান কাজ করা হলে ভবন নির্মান খরচ ব্যবহারভেদে ২০-৩০ শতাংশ কম হয়৷

৪। সমীক্ষায় প্রমানিত যে, ইট ভাটা শ্রমিকদের গড় আয়ু বাংলাদেশের সাধারন মানুষের গড় আয়ুর তুলনায় অনেক কম। ব্লক বা পরিবেশবান্ধব ইটের কারখানা হলে মৌসুমি বা দাদন শ্রমিকের পরিবর্তে বছরব্যাপী উন্নত কর্মপরিবেশের সৃষ্টি করা যাবে, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরনে ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কয়লা আমদানিতে দেশের অর্থ বিদেশে চলে যায়, অন্যদিকে ব্লক কারখানার কাচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় না। ড্রেজিং বালি, নদীর নুড়ি পাথর ও সিমেন্ট দেশীয় পন্য হওয়ায় দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধশালী হবে। ব্লক কারখানা আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করে সারা বছর ব্লক বা ইট উৎপাদন করতে পারে, এতে কম জায়গার প্রয়োজন হয় এবং বেশী জায়গা কৃষি কাজের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

100%

Eco Friendly

525

Collaegues & Counting

350+

Successfully Project

15

Year of experience

বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরনের উপায় ও প্রস্তাবনাসমূহ।

৭। সরকারের পক্ষ থেকে আইন, প্রজ্ঞাপন ও বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হলেও তার কোন বাস্তব প্রয়োগ না হওয়ায় পরিবেশবান্ধব কারখানাসমূহের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। লোকসান গুনতে গুনতে অনেক কারখানা এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যদি যথাযথ পদক্ষেপ এখনই না নেয়া হয় তাহলে এই সেক্টর চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই অতি জরুরী ভিত্তিতে নিম্নলিখিত কার্যক্রম গ্রহন করা উচিতঃ 

ক৷ মুল্যসংযোজন কর প্রজ্ঞাপন ২১ মে ২০২৩(এস আর ও নং ১৩৬-আইন/২০২৩/২১৩-মূসক) এ শিরোনাম সংখ্যা ৬৮.১০ এ ‘হলো কংক্রিট ব্লক” বা ছিদ্রযুক্ত রককে শুধুমাত্র শুল্কমুক্ত করা হয়েছে৷ ছিদ্রযুক্ত বা ছিদ্রমুক্ত উভয়প্রকার ব্লকই পরিবেশবান্ধব ব্লক, এখানে পার্থক্য করার কোন অবকাশ নেই। একই কারখানায় উৎপাদিত, একই উপাদান দিয়ে তৈরি ব্লকের মধ্যে ভ্যাট অসামঞ্জস্য অগ্রহনীয়। এখানে “Hollow” বা “ছিদ্রযুক্ত” শব্দটিকে বাদ দিলে পরিবেশবান্ধব ব্লক প্রস্ততকরণে শুল্কমুক্ত ব্যাবস্থা নিশ্চিত করা যাবে। একটি ব্লক প্রস্ততকারক কোম্পানি প্রতি বছর প্রায় ৬৩০-৮০ লক্ষ টাকা ভিডিএস(VAT deducted at Source), AIT (Advance Income Tax)  বাৎসরিক আয়কর সরকারী রাজস্ব খাতে জমা করে ৷ অপরপক্ষে, একটি সনাতনী মাটির ইট ভাটা আয়কর ও ভ্যাটবাবদ(বেছরে ৪.৫ লক্ষ টাকা নির্দিষ্ট) বছরে সর্বসাকুল্যে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা করে। পরিবেশবান্ধব পন্য উৎপাদনে নতুন উদ্যক্তা আনতে হলে, ইটের ভাটার ব্যবসায়ীদের ব্লক উৎপাদনে উৎসাহী করতে হলে, অবশ্যই ব্লক এর এই মূসক অসামঞ্জস্য দূর করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে, পরিবেশবান্ধব ইট/রক কারখানা যত বেশী হবে, সরকারের রাজস্ব আয় তত বেশী হবে এবং দেশের মঙ্গল হবে। 

খ। ব্লক ও ইটের মধ্যে দামের পার্থক্যঃ পরিবেশবান্ধব ও পরিবেশ ধ্বংসকারী উভয় প্রকার পন্যের দাম কখনও এক হতে পারে না, উপরন্ত পরিবেশবান্ধব পন্যের দাম বেশী হওয়ার কথা। বাস্তবিকভাবে দেখা যাচ্ছে যে, পরিবেশবান্ধব রক এর দাম সরকারের শিডিউল অব রেটে তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে, এতে ঠিকাদারগণ মানসম্পন্ন ব্লক ক্রয় না করে স্বল্প মূল্যে রক কিনতে বাধ্য হচ্ছে। এখানে উন্লেখ্য, ব্লক প্রস্তুত এর কাঁচামাল সিমেন্ট এর দাম প্রায় ৫০% বেড়েছে, ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৭০%, কিন্ত ব্লক এর দাম বাড়ানো হয় নাই। নিম্নে পরিবেশবান্ধব ব্লক এবং ইটের মুল্য পার্থক্য দেয়া হলঃ

পণ্য পিডব্লিউডি ২০২২ সালের রেইট অব শিডিউল পিডব্লিউডি ২০২৩ এলের রেইট অব শিডিউল বাঞ্ছনীয় মূল্য প্রস্তাবিত মূল্য তালিকা
প্রথম শ্রেণী ইট
১০ টাকা / পিস
১৩ টাকা / পিস (৩০% মূল্য বৃদ্ধি)
-
-
প্রথম শ্রেণীর পিকেট ইট
১১.৫০ টাকা / পিস
১৬ টাকা / পিশ্ব (৩৯% মূল্য বৃদ্ধি)
-
-
ছিদ্রহীন ব্লক (একটি ইটের সমান) ২৪০X১১৪X৭০ মিমি
১২ টাকা / পিস
১২ টাকা / পিস
১৫.৬০ টাকা / পিস (৩০% মূল্য বৃদ্ধি)
১৫ টাকা / পিস
ছিদ্রহীন ব্লক (পাঁচটি ইটের সমান) ৩৯০X১৯০X১১২ মিমি
৪০ টাকা / পিস
৪০ টাকা / পিস
৬৫ টাকা / পিস (পাঁচটি ইটের সমান)
৫৪ টাকা / পিস
ছিদ্রহীন ব্লক (পাঁচটি ইটের সমান) ৩৯০X১৯০X২৪০ মিমি
৯৫ টাকা / পিস
৯৫ টাকা / পিস
১৩০ টাকা / পিস (দশটি ইটের সমান)
১১০ টাকা / পিস

গ। পরিবেশবান্ধব ব্লক কারখানা এর মেশিন আমদানিকে আগামি পাঁচ বছরের জন্য শুল্কমুক্ত করতে হবে। ব্লক মেশিন আমদানিতে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো কাস্টমস কর্তৃক প্রোডাকশন পেলেট এর হয়রানী, যা ছাড়া পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদন সম্পূর্ন অসম্ভব। এই বিষয়ে চট্টগ্রাম ইউনিভারসিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি(08চা) এর ছাড়পত্র দেয়া সত্ত্বেও কাস্টমস অযথা কালক্ষেপন করে এবং বিভিন্ন চার্জ প্রদানে বাধ্য করে। মেশিনের সাথে পেলেট আমদানির বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকায় দেশে মানসম্পন্ন বড় ব্লক মেশিন আসছে না, যার কারনে ভালো ব্লক উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। ব্লক মেশিনের বিভিন্ন পার্টস/মোন্ড বা পেলেট এর আমদানিতে এনবিআর এর যথাযথ সহায়তা না পেলে পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না। 

ঘ। সর্বোপরি, ইট ভাটা সংশ্লিষ্ট আইন এর যথার্থ প্রয়োগ করতে হবে। সরকারী প্রজ্ঞাপন এ সুস্পষ্টভাবে ২০২৩- ২০২৪ সালে সকল সরকারী কাজে ৮০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব ব্লক/ইট ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না, এর কারনে ব্লক কারখানাসমূহ পন্য বিক্রির অভাবে কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে, এতে সরকারের এসডিজি পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ছে। পরিবেশের উন্নয়ন না করে কোন জাতি বা দেশ এসডিজি অর্জন করতে পারে না। মাননীয় মন্ত্রী জনাব সাবের হোসেন চৌধুরী, এমপি এর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ব্লক মালিকদের মধ্যে এক উৎসাহ ও উদ্দীপনার উন্মেষ ঘটেছে, যার প্রেক্ষিতে রক সেক্টরে বড় মেশিন স্থাপনে ও বিনিয়োগে ব্যপক সাড়া পড়েছে। বর্তমান অবস্থাদৃষ্টে আশা করা যাচ্ছে যে, ডিসেম্বর ২০২৪ সালের মধ্যে সরকারী প্রকল্পে শতভাগ ব্লক সরবরাহের সক্ষমতা অর্জন সম্ভব। তবে, সরকারী নির্মান কাজে শতভাগ ব্লক ব্যবহার নিশ্চিত না করা হলে এই সেক্টর এ বিনিয়োগে ব্লক কারখানার 3 ম্যান মালিকগন, ব্যবসায়ীগন ও ঠিকাদারগন আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন, যা আমাদের পরিবেশ ও চাষের জমির মাটিকে ধ্বংস করে দেবে। 

শেষ কথা

৮। পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে। একটি ব্লক কারখানায় শিক্ষিত, টেকনিক্যাল এবং স্বল্প/অশিক্ষিত সকল শ্রেনীর প্রায় ৩৫-৬০ জনের কর্মসংস্থান হয়, যা বেকার সমস্যা দূরীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন; অন্যদিকে ইট উৎপাদনে কোন টেকনিক্যেল স্কিল গঠিত হয় না এবং বেকার সমস্যা নিরসনে কোন ভূমিকা রাখে না। বরং সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ইট শ্রমিকদের গড় আয়ু অনেক কম, তারা বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগে থাকেন। ব্লক কারখানাসমূহ একটি ইট ভাটার প্রায় ১০ গুন বেশী বিভিন্ন রাজস্ব সরকারী কোষাগারে জমা দিয়ে সরকারের উন্নয়ন বাজেটকে সহায়তা করেন; অন্যদিকে ইটভাটার মালিকগন জোর করে গরীব কৃষকের চাষের জমির মাটি তুলে আনে ও গরীব মানুষকে মহাজনী কায়দায় জিম্মী করে কাজ করায়। বাংলাদেশের বায়ুদূষণ নিরসনে এক অসামান্য অবদান রেখে চলেছে এই ব্লক সেক্টর, অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির ইট ভাটাসমূহ বায়ূদূষন এ অন্যতম নিয়ামক ভূমিকা পালন করছে। একদিকে চাষের জমির মাটি নষ্ট করছে ইটভাটাসমূহ, আর অন্যদিকে ড্রেজিং বালি দিয়ে ব্লক বানিয়ে নদীর নাব্যতা রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে এই ব্লক সেক্টর। এছাড়া, WASA Sludge এর ফ্লাই এশ; রি-রোলিং মিল এর স্ন্যাগ (By product of stell Mills) , নদী উৎস মুখের মোটা বালি ও পাথর, অন্যান্য বর্জ্য ব্যবহার করে ব্লক উৎপাদন করা হচ্ছে, এতে পরিবেশের উপর নীতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 

৯। “পরিবেশ বাচাও, দেশ বাচাও” এই গ্লোগানে উদ্দীপিত হয়ে দেশের স্বার্থে সকলকে একসাথে কাজ করার আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে “চাষের জমি রক্ষা করবো, মাটির ইট পরিহার করবো” লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে কৃষিখাত রক্ষা করতে না পারলে, ১৮ কোটি মানুষের অনুসংস্থান করা যাবে না। এই ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়ে পরিবেশবান্ধব বর্লক/ইট কারখানা স্থাপনে বিভিন্ন নীতিমালা করেছেন, এখন প্রয়োজন তার বাস্তবিক প্রয়োগ। এতে সরকারের স্বাস্থ্যখাতের ব্যয় হস পাবে, কর্মসময় এর যথাযথ ব্যবহার হবে, কৃষি খাতের উন্নয়ন হবে, চাষের জমি ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে, দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থান হবে, এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। সর্বোপরি, আন্তর্জাতিক মণ্ডলে বাংলাদেশ এর পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

Trust and Worth

Our Clients